শিরোনাম :
শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়েছে, দলীয়ভাবেও আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল উত্তরের অচেনা বিস্ফোরণ: লেবাননে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় নিহত ৩, আহত ১৩ কারামুক্তির পর পর্দায় ফেরার বার্তা: ‘জ্বীন-৩’ দিয়ে ফিরলেন নুসরাত ফারিয়া জামায়াতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ চীন সফরে জাতীয় সমাবেশে জামায়াতের বার্তা: ৭ দফা দাবিতে বড় গণসমাবেশের প্রস্তুতি বাস রুট পারমিট নিয়ে ঢাকার পরিবহন খাতে অস্থিরতা, সিদ্ধান্তহীনতায় আরটিসি বরিশালে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অচল জনজীবন নিঃসঙ্গ জীবনের করুণ পরিণতি: পাকিস্তানে অভিনেত্রী হুমাইরা আসগরের পচনধরা লাশ উদ্ধার ব্যাটিং বিপর্যয়ে সিরিজ হাতছাড়া, হতাশ মিরাজ জানালেন ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা পুনরায় মহাসংঘর্ষ: রিয়াল-পিএসজির দ্বৈরথে আজ ইতিহাস লিখবে কে?

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গান বাজানোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

আজকের খবর ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫
  • ৪৬ বার
টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গান বাজানোতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

প্রকাশ: ১২ জুন, ২০২৫ | আজকের খবর ডেস্ক | আজকের খবর অনলাইন

সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় উচ্চস্বরে গান-বাজনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে পরিবেশবাদী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

সোমবার, ৯ জুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবহিত করেন। পোস্টটিতে তিনি উল্লেখ করেন, হাওরে আগত কেউ যদি উচ্চস্বরে গান বাজানো, মাইক ব্যবহারের মাধ্যমে শব্দদূষণ ঘটান, তবে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনওর মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটনের আড়ালে যে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি হচ্ছে, তা দমন করতেই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিবেশ সুরক্ষায় নয়, হাওরের টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এদিকে বিশিষ্ট গবেষক ও পরিবেশবিদ পাভেল পার্থ এ বিষয়ে বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল প্রাকৃতিক জলাভূমি, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে হাওরে যেভাবে হাউজবোট চালানো হচ্ছে, উচ্চ শব্দে ডিজে ও গান বাজানো হচ্ছে এবং অবাধে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তাতে হাওরের পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে শুধু প্রাকৃতিক পরিবেশ নয়, স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবনধারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

পরিবেশবিদদের মতে, হাওরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং অসচেতন পর্যটকদের আচরণে হাওরের পাখি, জলজ প্রাণী এবং জলজ উদ্ভিদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। শব্দদূষণে অভয়াশ্রমের পাখিরা নিরাপদে বাসা বাঁধতে পারছে না, অনেক দুর্লভ প্রজাতি ইতোমধ্যেই হাওর এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হাউজবোট থেকে নিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক বর্জ্য পানির মান নষ্ট করছে, যা জলজ প্রাণীর খাদ্যচক্রকে ব্যাহত করছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গুয়ার হাওরকে সংরক্ষিত জলাভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও গত কয়েক বছরে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন কার্যক্রম, অপরিকল্পিত হাউজবোট চলাচল এবং মনিটরিংয়ের অভাবে এর পরিবেশগত ভারসাম্য চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশনা পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারিই যথেষ্ট নয়, বরং এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। হাওর সংলগ্ন এলাকার মানুষদের সচেতন করা, পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং হাউজবোট পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করাই হতে পারে টাঙ্গুয়ার হাওরের টেকসই ভবিষ্যৎ রক্ষার অন্যতম পথ।

এই নিষেধাজ্ঞা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকে নয়, বরং দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ প্রকৃতি রেখে যাওয়ার পথকেও সুগম করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫